সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় একটি ড্রেজার, একটি অ্যাঙ্কর বোট, একটি হাউজ বোট, এক হাজার ফুট পাইপ ও ৭ হাজার ৫০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মেঘনা নদীর আনন্দবাজার-ছনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গাইবান্ধা জেলার দৌলতপুর থানার চর কালিকাপুর গ্রামের আবদুল মান্নান শেখের ছেলে আব্দুল খালেক, একই জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ক্রোড়গাছা গ্রামের আফসার আলী মণ্ডলের ছেলে আমিরুল ইসলাম এবং পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার তিস্তাপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ কামালের নেতৃত্বে এসআই আকতার হোসেনসহ পুলিশের একটি দল আনন্দবাজার-ছনপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি ড্রেজার, একটি অ্যাঙ্কর বোট, একটি হাউজ বোট, এক হাজার ফুট পাইপ ও ৭ হাজার ৫০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। এ সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে একটি চক্র রাতের আঁধারে মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। তবে এ অভিযোগের সঙ্গে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে মাজহারুল ইসলাম বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি চক্র মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ড্রেজার, বোট, পাইপ ও বালু জব্দ করা হয়েছে।”
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।