মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির রামগড়ে দীর্ঘ ৯ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরে পেয়েছেন মা জাহানারা বেগম। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রামগড় থানা পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহীর একটি সেফহোম থেকে রমুজা আক্তার (৩৯)–কে তার মা ও বোনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন পর মা-মেয়ের দেখা হওয়ায় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রমুজা। অন্যদিকে হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি মা জাহানারা বেগম। মেয়েকে ফিরে পেতে সহযোগিতা করায় আদালত ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রমুজা আক্তার। এরপর আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।
রমুজা ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের কবির আহাম্মদ ও জাহানারা বেগমের মেয়ে। ২০০৭ সালে পাশের রামগড় উপজেলার বালুখালী গ্রামের মনসুর আলী চকিদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
রমুজার মা জাহানারা বেগম জানান, অভাব-অনটন ও পারিবারিক অশান্তির কারণে ২০১৭ সালে তার মেয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানায় রমুজার নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে রাজশাহীর বায়া এলাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত মহিলা ও শিশু-কিশোরীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে (সেফহোম) পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন তিনি।
সম্প্রতি সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে রমুজার পরিচয় শনাক্ত হয়। এরপর তাকে ফিরে পেতে তার মা আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহী থেকে রমুজাকে রামগড়ে নিয়ে আসা হয়।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম জানান, মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সহযোগিতায় রমুজাকে রাজশাহী থেকে রামগড়ে আনা হয়। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে তার মা ও বোনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর পর রমুজা মায়ের কাছে ফিরে এসেছেন। মা-মেয়েকে একসঙ্গে দেখে এলাকার মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় রমুজা অনেকটা বাক্প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।