সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর গ্রামের প্রায় দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গামন্দিরে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পূজা-অর্চনা বন্ধ রয়েছে। একসময় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর থাকা মন্দিরটি এখন অনেকটাই নীরব। এরই মধ্যে মন্দিরের আঙিনায় ছাগল-মুরগি পালন এবং দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ, মন্দিরের নামে থাকা প্রায় ৬ দশমিক ৬৭ একর দেবোত্তর সম্পত্তি থেকে আয় হলেও এর যথাযথ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। মন্দিরের সেবায়েত দিলীপ কুমার তালুকদারের বিরুদ্ধে পূজা-অর্চনা বন্ধ রাখা, মন্দিরের আঙিনা খামার হিসেবে ব্যবহার এবং দেবোত্তর সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও করেছেন তারা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মন্দিরের সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৩৪ একর ফসলি জমি, ১ দশমিক ২০ একর মন্দিরের জায়গা, ১ দশমিক ২৫ একর বাগানবাড়ি এবং শূন্য দশমিক ৮৮ একর পুকুর রয়েছে। এসব সম্পত্তির ফসল, বাগানের ফল, বাড়িভাড়া ও পুকুরের মাছ বিক্রি থেকে আয় হয়ে থাকে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে পূজা বন্ধ থাকায় দুর্গানগর গ্রামের আটটি হিন্দু পরিবারসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ৬৮টি পরিবার নিজ এলাকার মন্দিরে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। পূজা-পার্বণে তাদের অন্য এলাকার মন্দিরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমিদার আমলে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। সেবায়েত নিয়োগ, সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও পূজা-অর্চনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ তৈরি হয়। ২০০৩ সালে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দিলীপ কুমার তালুকদারকে সেবায়েত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং মন্দির পরিচালনার জন্য পূজা উদ্যাপন কমিটি গঠন করা হয়।
তবে মন্দিরের সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেবায়েত দিলীপ কুমার তালুকদার। তাঁর দাবি, মন্দিরে যাওয়ার রাস্তা না থাকা এবং সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় পূজা-অর্চনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
দুর্গানগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান জানান, মন্দিরের সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা রয়েছে।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার ঘোষ বলেন, মন্দিরের সম্পত্তি দেবোত্তর সম্পত্তি। এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। পূজার পর নতুন কমিটি গঠন করে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবি, প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে মন্দিরের সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা, আয়-ব্যয়ের হিসাব ও পূজা বন্ধ থাকার কারণ নির্ধারণ করে দ্রুত বিরোধের নিষ্পত্তি করা হোক। একই সঙ্গে প্রায় দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটিতে আবার নিয়মিত পূজা-অর্চনা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।