সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা আগেই একটি দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বড়পাঙ্গাসী খোন্দকার নূরুন্নাহার জয়নাল আবেদীন দাখিল মাদ্রাসায় গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর। পরে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সরেজমিনে গিয়ে মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অথচ ওই দিন দুপুরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মাদ্রাসাটির এবতেদায়ি ও দাখিল শাখার প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান ফটকের টিনের গেটে তালা ঝুলছে। প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারি দেয়ালে মাদ্রাসার নাম ও প্রতিষ্ঠার সাল ১৯৮৯ লেখা রয়েছে। তবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পুরো প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকা ছিল। কোনো শিক্ষক, কর্মচারী বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসা-সংলগ্ন কয়েকজন দোকানদার ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, মাদ্রাসার সুপার মো. আবু বক্কার সিদ্দিক ওই দিন প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য শিক্ষকরা দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়; প্রায়ই এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. আবু বক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই দিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এডহক কমিটির পরিপত্র আনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডাকে সিরাজগঞ্জে গিয়েছিলাম। যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের আরবি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা শাহ আলমকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলাম।’
তবে দায়িত্ব দেওয়ার পরও কেন প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেল—এ বিষয়ে সুপার বলেন, তিনি পরে জানতে পেরেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুপস্থিতি ও তদারকির ঘাটতির কারণে শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ১২ জন। নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিভাবকরা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ওই দিনের ক্লাসই নষ্ট হয় না, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি শুধু একজন শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; শিক্ষা প্রশাসনেরও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁরা বিষয়টি দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের সময়সূচি এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণ খুঁজে বের করবে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।