সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আপন ভাইসহ চারজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অহিদুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে তিনি থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। এর আগে গত ১২ অক্টোবর উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১২ অক্টোবর সকাল পৌনে ৮টার দিকে অহিদুল ইসলামের বসতঘরের সামনে আবদুল হালিম ও তাঁর পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা, ছুরি ও শাবল নিয়ে আসেন। এ সময় তাঁরা অহিদুলকে গালিগালাজ করেন। তাঁর ১৭ বছর বয়সী ছেলে আলভী প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে আবদুল হালিম শাবল দিয়ে আলভীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। ছেলেকে রক্ষা করতে অহিদুল ইসলাম (৩৮) ও তাঁর স্ত্রী আফরিন (৩২) এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।
অহিদুলের অভিযোগ, এ সময় আবদুল হালিমের ছেলে আবু সিদ্দিক ছুরি দিয়ে তাঁর বাম চোখের ওপর আঘাত করেন। এতে ওই স্থানে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। একই ঘটনায় তাঁর বাম কানেও গুরুতর আঘাত লাগে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্বজনেরা অহিদুল ও তাঁর ছেলে আলভীকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
অহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাবা জাবেদ আলীকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর থেকেই প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবদুল হালিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।