খ.ম. জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নতুন করে নির্বাচনী আলোচনা শুরু হয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন। হাট-বাজার, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন জনসমাগমে ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তারা এলাকার উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।
এরই মধ্যে নাসিরনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আলোচনায় উঠে এসেছে ঐতিহ্যবাহী কুলিকুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি নেতা মো. সামিরুল ইসলাম চৌধুরী মোতাহারের নাম।
বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রিধারী সামিরুল ইসলাম চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং নাসিরনগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকায় তার একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা জানান স্থানীয়রা।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সামিরুল ইসলাম চৌধুরী মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কারণে স্থানীয় মানুষের একটি অংশ তাকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
স্থানীয়দের দাবি, নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিকসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। তাদের মতে, সামিরুল ইসলাম চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এসব ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সামিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমি প্রতিনিধি নয়, সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। পদ-পদবির চেয়ে মানুষের সেবাকে বেশি গুরুত্ব দিই। নাসিরনগর আমার জন্মভূমি ও প্রাণের জায়গা। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত ইউনিয়ন গড়তে আমি সবসময় কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।
নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানগুলোতেও শুরু হয়েছে আলোচনা। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ সামিরুল ইসলাম চৌধুরীকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ইউনিয়নের নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে।