সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বালু ভরাট করে দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ভিটিকান্দি এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে এ ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় গত রোববার রাতে ভুক্তভোগী মাহাবুবুর রহমান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভিটিকান্দি গ্রামের মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে একই এলাকার মোক্তার হোসেনের ৩০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে মাহাবুবুর রহমান, আব্দুর রউফ, মো. মঞ্জুর হোসেন ও রুহুল আমিন বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম দ্বিতীয় জজ আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত রোববার সকালে মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল বিরোধপূর্ণ জমিতে বালু ভরাট শুরু করে। এ সময় আব্দুল লতিফ, মোন্তাজউদ্দিন, মো. মানিক মিয়া, ফজল হক, রূপ চাঁন মিয়া, পিয়ার জাহান, শরীফ ও মো. রশিদসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে তারা চার ভাই ওই জমির মালিক। নামজারি সম্পন্ন করে নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি রামগোবিন্দের গাঁও গ্রামের মোক্তার হোসেন কথিত দলিলের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। এ কারণে তারা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন এবং আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে জমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোক্তার হোসেন বলেন, ৯০ শতাংশ সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। তবে তার নামে কোনো মামলা নেই; মানিক ও রূপচাঁনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। থানায় অভিযোগের বিষয়ে তিনি কাগজপত্র নিয়ে জবাব দেবেন। তিনি দাবি করেন, যে জমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে, ওই জমি নিয়ে কোনো মামলা নেই।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।