পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নেত্রকোনা জেলায় টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। আগস্ট মাসের সার্বিক পুলিশি কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোনা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভায় ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ-এর হাতে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা তুলে দেন নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম।
চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল দুর্গাপুর থানায় যোগদানের পর থেকে পাহাড়ি ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান, চোরাচালান প্রতিরোধ, আদালতের পরোয়ানা তামিল এবং আসামি গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন ওসি শাকের আহমেদ। এর আগে মে ও আগস্ট মাসেও তিনি ময়মনসিংহ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন।
এদিকে আগস্ট মাসের সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়নে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান (বারহাট্টা সার্কেল, অতিরিক্ত দায়িত্বে দুর্গাপুর সার্কেল)। শ্রেষ্ঠ এসআই হয়েছেন দুর্গাপুর থানার মো. মহিবুর রহমান। সর্বোচ্চ প্রসিকিউশন দাখিলকারী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর খান।
এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা সদর থানার মো. সুমন মিয়া এবং সর্বোচ্চ ডিউটিকারী ট্রাফিক কনস্টেবল হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন নেত্রকোনা ট্রাফিক বিভাগের শফিকুল ইসলাম।
তদন্ত ও বিশেষ অবদানের জন্য বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন পূর্বধলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পিপিএম; নেত্রকোনা সদর থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম ও এসআই মাসুম বিল্লাহ স্বপন; ডিবির এসআই শেখ তৌফিকুল আমিন এবং দুর্গাপুর থানার এএসআই হারুন অর রশিদ।
সম্মাননা পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “এই অর্জন দুর্গাপুর থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব।”
সীমান্তবর্তী ও স্পর্শকাতর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ধারাবাহিক সাফল্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এ অর্জন পুলিশ সদস্যদের কর্মোদ্দীপনাও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।