মোক্তার হোসেন, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৭৪ জন শিক্ষকসহ হাজারো শিক্ষার্থী। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, বদলি, পদোন্নতি, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
উপকূলীয় জনপদ কয়রার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যালয়টি সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে নিয়মিত কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত ব্যক্তিরা।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। এ ছাড়া উচ্চমান সহকারী, হিসাব সহকারী, দুটি অফিস সহকারী ও একটি এমএলএসএস পদ শূন্য রয়েছে। ফলে দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, হিসাব-নিকাশ, শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটছে।
জনবল সংকটের কারণে কর্মকর্তাদের নিজেদের দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজও সামলাতে হচ্ছে। এতে কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। জরুরি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে বহিরাগত ব্যক্তিদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগও উঠেছে।
বেদকাশি বটুল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি স্বাক্ষরের জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুরতে হয়। অফিসে লোকবল না থাকায় শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান তো দূরের কথা, অনেক সময় কথা বলার সুযোগও পাওয়া যায় না। অন্তত অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের পদ দুটি দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, “জনবল সংকটের কারণে দাপ্তরিক কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করি, খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যালয়ের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, বিদ্যালয় তদারকি ও প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কয়রার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে গতিশীল করা গেলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।