শিরোনাম
নাসিরনগরে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল নাসিরনগরে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, রং তুলিতে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা লংগদুতে ভাঙা ব্রিজ থেকে পানিতে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু তাড়াশে চলনবিল পুনরুদ্ধারে সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা নিয়ে মতবিনিময় যমুনায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার, গ্রেপ্তার ৫ সিরাজগঞ্জে জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকিতে তাড়াশে মাগুড়া বিনোদ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাহরুল ইসলামের গণসংযোগ তাড়াশে জমি বিরোধে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ লংগদুতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন সোনারগাঁয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তাড়াশে গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

নাসিরনগরে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, রং তুলিতে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

প্রতিবেদকের নাম / ১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

 

খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় এখন উৎসবের আমেজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরজুড়ে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও পূজামণ্ডপ সাজানো হচ্ছে, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণ। আর প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা এখন সবচেয়ে বেশি। মাটির প্রতিমায় রং ও তুলির শেষ আঁচড় দিয়ে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

আগামী ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েক গুণ।

সরেজমিনে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ, খড়, দড়ি ও মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলোর মূল কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ। কোথাও চলছে মাটির শেষ প্রলেপ, কোথাও শুকনো প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে রং। শিল্পীদের কেউ ব্যস্ত দেবী দুর্গার মুখমণ্ডল নিখুঁত করে তুলতে, কেউ আবার লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় রং ও অলংকরণের কাজ করছেন।

একটি প্রতিমা তৈরির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শ্রম ও একাধিক ধাপের কাজ। প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয় কাঠামো। এরপর তার ওপর দেওয়া হয় মাটির প্রলেপ। মাটি শুকিয়ে গেলে তা মসৃণ করে তৈরি করা হয় মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ। সবশেষে রং, অলংকার ও সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে দেওয়া হয় পূর্ণাঙ্গ রূপ। প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন হয় দক্ষতা, ধৈর্য ও নিখুঁত হাতের কাজ।

পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। উৎসবের দিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদে অনেক শিল্পীকেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে মাটির কাঠামো হয়ে উঠছে পূজার মূল আকর্ষণ দেবী দুর্গার প্রতিমা।

প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে মণ্ডপগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। শিশু-কিশোরদের আগ্রহই যেন বেশি। মাটির কাঠামো কীভাবে ধীরে ধীরে দেবদেবীর প্রতিমায় রূপ নেয়, তা দেখতে তারা শিল্পীদের কাজ গভীর মনোযোগে দেখছে। তরুণ-তরুণী ও বয়স্কদেরও দেখা যাচ্ছে প্রতিমা তৈরির দৃশ্য উপভোগ করতে।

তবে প্রতিমার চূড়ান্ত সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে শিল্পীদের দীর্ঘ পরিশ্রম ও সংগ্রাম। বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়কে ঘিরে তাদের কর্মব্যস্ততা বাড়লেও এ পেশায় আয় সবসময় স্থায়ী নয়। উপকরণের দাম বৃদ্ধি, শ্রমের মূল্য, সময়ের চাপ ও অনিশ্চিত জীবিকার মধ্যেও তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধরে রেখেছেন প্রতিমা তৈরির ঐতিহ্য। তাদের হাতেই মাটি প্রাণ পায়, আর সেই শিল্পকর্মই হয়ে ওঠে উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এদিকে পূজাকে ঘিরে নাসিরনগরের বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে নানা ধরনের প্রস্তুতি। কোথাও চলছে আলপনা আঁকার কাজ, কোথাও বসানো হচ্ছে আলোকসজ্জা। মণ্ডপের প্রবেশপথে নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে অনেক মণ্ডপেই নেওয়া হচ্ছে নান্দনিক সাজসজ্জার উদ্যোগ। সব মিলিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অনুযায়ী, নাসিরনগর উপজেলায় এবার ১৪২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এসব মণ্ডপে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। আয়োজকদের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পূজা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকরাও নিজ নিজ মণ্ডপে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গাপূজা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে এ উৎসব বাংলার লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। পূজার কয়েকটি দিন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন মানুষ।

নাসিরনগরে এখন তাই অপেক্ষা শুধু উৎসবের। প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পাচ্ছে আয়োজন। কয়েক দিনের মধ্যেই আলোয় আলোকিত হবে পূজামণ্ডপগুলো। রং-তুলিতে সজ্জিত দেবী দুর্গার প্রতিমাকে ঘিরে জমে উঠবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা।

প্রতিমাশিল্পীদের ঘাম, শ্রম ও দক্ষতায় তৈরি সেই প্রতিমাই তখন হয়ে উঠবে উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব নাসিরনগরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
08 October 2026

নাসিরনগরে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, রং তুলিতে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

www.dainikkagoj.com
08 October 2026

নাসিরনগরে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, রং তুলিতে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা

www.dainikkagoj.com