ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে অবস্থিত ক্যাফে ফাস্ট ফুডে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আলমগীর হোসেন রায়গঞ্জ পৌরসভার রনতিথা মহল্লার মৃত বাবলু শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এবং ক্যাফে ফাস্ট ফুডের স্বত্বাধিকারী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের বিষয়ে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ধানগড়া বাজারে একটি জরুরি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তার গাড়িতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় সংসদ সদস্যের গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি শারীরিকভাবে আহত হননি। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা ফয়সাল বিশ্বাসের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে যুক্ত হয়ে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন এমপি আয়নুল হক। লাইভে তিনি হামলার জন্য জামায়াত, শিবির ও এনসিপিকে দায়ী করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে জেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষ থেকে পৃথকভাবে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ ঘটনায় রোববার রাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে মামলার আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে গ্রেফতার আলমগীর হোসেনের শ্যালক মোহাম্মদ মুন্না দাবি করেছেন, আলমগীর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-মিছিলেও অংশ নেননি। ব্যবসা নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকেন। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে আলমগীরের সম্পৃক্ততা নেই।
মোহাম্মদ মুন্না বলেন, আলমগীর যদি হামলার ঘটনায় জড়িত থাকতেন, তাহলে তিনি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করতেন না। অথচ পুলিশ তার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেই তাকে গ্রেফতার করেছে। তিনি ঘটনার সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আলমগীর হোসেনের মুক্তির দাবি জানান।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় আলমগীর হোসেন একজন এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।