মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সরোজ কুমার মিস্ত্রির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা বলেন, দেশের মোট জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ মৎস্য খাত থেকে আসে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় ৫ হাজার ৪২২ হেক্টর জলায়তন রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলায় ২১ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হলেও স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৪৫৬ মেট্রিক টন ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় প্রধানত কার্পজাতীয় মাছের চাষ বেশি হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গত পাঁচ বছরে মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলায় কোনো প্রকল্প না থাকায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, মৎস্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাছ চাষে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাছকে কোনো ধরনের ভেজাল খাদ্য না দেওয়ার বিষয়ে চাষিদের সতর্ক থাকতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার মৎস্য পক্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার ও মা মাছ ধরা বন্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
পরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সফল ও আদর্শ মৎস্যচাষি এবং মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় চারজন শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষিকে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্ক সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক উজ জামান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি প্রমুখ।