আশরাফুল ইসলাম রনজু, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর উপজেলার চুনিয়াপাড়া এলাকায় প্রায় ১০৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠছে ‘কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট’। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের জরিপ ও প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে রিসোর্টটির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি কৃষি, পরিবহন, খাদ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবাখাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, কৃষি, প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে যাওয়া এ রিসোর্ট শুধু বিনোদনকেন্দ্র নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য সরাসরি ও পরোক্ষভাবে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়, তানোরের চুনিয়াপাড়া এলাকায় নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের চেয়ারম্যান তিনি নিজেই। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন উদ্যোক্তা। তাঁদের মধ্যে শামিম হোসেন ও মিঠুন কুমার অন্যতম।
প্রকল্পের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, “বরেন্দ্রভূমির মাটির গন্ধ, গ্রামের স্বাভাবিক জীবন ও প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য—এই তিনের সমন্বয়ে চুনিয়াপাড়ায় তৈরি হচ্ছে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর পর্যটন মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।”
তিনি বলেন, শহরের ব্যস্ততায় ক্লান্ত মানুষের জন্য প্রকৃতি ও শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার একটি ভিন্নধর্মী ঠিকানা তৈরি করাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঠুন কুমার জানান, শতাধিক বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠছে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে কৃষি, প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন ও অবকাশযাপনের সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে মাটির ঘর। আধুনিক নগরজীবনের কংক্রিটের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে দর্শনার্থীরা এখানে গ্রামীণ আবহ ও মাটির ঘরের আপন অনুভূতি পাবেন। মাটির গন্ধ, খোলা বাতাস, গ্রামের পরিবেশ ও চারপাশের প্রকৃতি মিলিয়ে তৈরি হবে শেকড়ের কাছে ফেরার অভিজ্ঞতা।
মিঠুন কুমার আরও বলেন, মাটির ঘরের বারান্দায় বসে দূরের মাঠ দেখা কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের উদ্বোধন ও বিশেষ অতিথি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত। শুক্রবার তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট এলাকা পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রকল্পের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে কুটুমবাড়িকে সবার জন্য একটি আনন্দময় মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।”
প্রকল্পটির মূল ডিজাইনার মো. মামুন সারোয়ার জানান, কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের জন্য ব্যতিক্রমী নকশা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর একটি স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।
উদ্যোক্তারা জানান, ‘কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট’ নামের মধ্যেই রয়েছে প্রকল্পটির মূল ভাবনা। কৃষিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে এখানে। বিস্তৃত পরিসরে কৃষি ও প্রকৃতিকে ঘিরে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যটনসুবিধা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ, প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।