ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় মিজানুর রহমান ওরফে মোজাম্মেল (৫০) নামে এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি মো. ইমরান হোসেন আপেল (৪১) পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের হেমনগর গ্রামের মৃত মেহের উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ থানাধীন কাটাবাড়ী মৌজার বিভিন্ন দাগে মোট ১২৪ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন মৃত মেহের উদ্দিন ও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন। তাদের জীবদ্দশায় এবং উত্তরাধিকারীদের ভোগদখলে থাকা এসব সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হলে ভুক্তভোগীর চাচা, বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী, ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি তাড়াশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৮৩ নম্বর রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো ক্রয় করেন।
পরে জমিগুলো নামজারি করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধের পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সগুনা ইউনিয়নের ধামাইচ গ্রামের শাহরিয়ার জয় জুয়েল অভিযোগ করেন, জমিগুলো বিবাদীদের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় মিজানুর রহমানসহ অন্যরা সেগুলো দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এ সময় তারা ৫৫৭ নম্বরের একটি কথিত দলিল উপস্থাপন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের ১৭ জানুয়ারির ওই দলিলের তারিখ পরিবর্তন করে ২৭ জানুয়ারি দেখিয়ে পিবিআইয়ের কাছে ফটোকপি জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে কথিত দলিলের টিপসইয়ের সিরিয়াল নম্বরে অসংগতি পাওয়া যায়। এ ছাড়া দলিলে উল্লেখিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া মৌজার ৮৫০ নম্বর দাগের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। দলিলের রেজিস্ট্রির তারিখের পর স্ট্যাম্প কেনার বিষয়টিও জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই কথিত দলিলের ফটোকপি ব্যবহার করে বিবাদীরা সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমআর-৮২ নম্বর মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি ও জমি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাড়াশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার এএসআই উত্তম কুমার বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মিজানুর রহমানকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।