মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একপর্যায়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বক্তব্য দিতে উঠলে আকরাম হোসেন জিশান নামে এক যুবককে বাধা দেওয়া হয় এবং আপত্তির মুখে তিনি মঞ্চ ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য এবং শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গেলে জেলা এনসিপির যুবশক্তির নেতা জোনায়েদ হোসেন দাবি করেন, আকরাম হোসেন জিশান প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা নন এবং আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। এ নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জিশান আর বক্তব্য না দিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন। ঘটনাটি অনুষ্ঠানস্থলে সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নির্ধারিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন, রামগতি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ডা. মো. শামসুল আলম এবং কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম।
এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম. দিদার হোসেন, জামায়াতে ইসলামী কমলনগর শাখার সভাপতি আবুল খায়ের এবং গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি সোলেমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আন্দোলনে আহত স্থানীয় জুলাই যোদ্ধা মো. পারাবিসহ প্রায় ১২ জন আহত যোদ্ধা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এক চোখ হারানো পারাবির আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি হয়। সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতির প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সমাপনী বক্তব্যে ইউএনও রাহাত উজ জামান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে।”
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক, ফুল ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।