শংকর চন্দ্র সরকার, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনা পৌর শহরের দক্ষিণ সাতপাই এলাকায় প্রয়াত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর ওপর বর্বর হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। গত ২২ জুন সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় গুরুতর আহত ওই নারী বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত তাহেরা আক্তার (৫২) দক্ষিণ সাতপাই এলাকার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. আলম (৩৫), তার স্ত্রী সোমা আক্তার, মা সাজেদা বেগম (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির পাশের রাস্তার জায়গা নিয়ে তাহেরা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আলম ও তার সৎ বাবা গনি মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ২২ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলম ও তার স্ত্রী সোমা আক্তার তাহেরা আক্তারের বোনের ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. ইলিয়াসের মনোহারি দোকানের সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে তাহেরা আক্তার এর কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, পরে আলমের মা ও আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে তাহেরা আক্তারকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। হামলার পর অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন আহত তাহেরা আক্তারকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত মেডিকেল কনসালটেন্ট ডা. নাজমুল সাকিব উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত আলম নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. ইলিয়াসকে বিবাদী করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ইলিয়াস ঘটনার সময় মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এর আগেও আলম তাহেরা আক্তারের বড় মেয়ে বৃষ্টিকে মারধর করেছিলেন, যা স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও নারীসংক্রান্ত একটি মামলার অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর তাহেরা আক্তারের পক্ষে তার ভাগ্নে মো. ইলিয়াস নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অসহায় বিধবা তাহেরা আক্তার ও তার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।