মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আশ্রম বাজারে সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকায় বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশনা সত্ত্বেও দখলদাররা জায়গা খালি না করায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশ্রম বাজারের জারিরদোনা সেতুর পশ্চিম পাশে বিস্তীর্ণ সরকারি খাস জমি রয়েছে। বাজার সম্প্রসারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য উপযোগী এ জমি দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জারিরদোনা সেতুর গোড়ায় সড়কের ওপর মাছের ব্যবসাসহ বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে ওঠায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বাজারের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারি জমি দ্রুত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আশ্রম বাজারের ইজারাদার মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সড়কের ওপর বসা ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা গেলে বাজারের পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্য উভয়ই উন্নত হবে।
জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও সংশ্লিষ্ট তহসিলদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা অবৈধ দখলদারদের সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে নির্দেশনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও জমি দখলমুক্ত করার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, “সেতুর পশ্চিম পাশের জমিগুলো সরকারি খাস জমি। এসব জায়গা দখলমুক্ত করে সড়কের ওপর বসা ব্যবসায়ীদের সেখানে স্থানান্তর করা হলে বাজার আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হবে।”
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোখলেছুর রহমান ধনু বলেন, “বাজারের পরিবেশ রক্ষা করা ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্ব। সরকারি জমি দখল ও সড়ক অবরোধ করে ব্যবসা পরিচালনা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ঐতিহ্যবাহী আশ্রম বাজারের শৃঙ্খলা ও হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন