মো. শাহ আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম।
বুধবার উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘Combating Human Trafficking through Strengthening 4Ps’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, অনেকেই সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে তারা নানা ধরনের প্রতারণা, শোষণ ও ঝুঁকির মুখে পড়েন। অনিরাপদ অভিবাসনের সুফল-কুফল এবং মানব পাচারের বাস্তব ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব দৃষ্টান্ত প্রচারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও উপলব্ধি সৃষ্টি করা সম্ভব। তিনি মাঠপর্যায়ে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের এ ধরনের কোনো ঘটনা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নজরে এলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান।
তিনি মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের গৃহীত কার্যক্রমের প্রশংসা করে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রুপু কর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং শিক্ষকবৃন্দ।
সভায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর প্রমা প্রিসিলা ম্রং।
উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রুপু কর বলেন, মানব পাচার বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। মানুষ দালালের প্ররোচনায় পড়ে সর্বস্ব হারায়, নির্যাতনের শিকার হয়, ভিটেমাটি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যায়। অনেক পরিবার ভেঙে পড়ে, এমনকি কেউ কেউ প্রাণও হারান। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্র্যাকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের বিশ্বাস বলেন, সঠিক তথ্যের অভাব মানব পাচারের অন্যতম কারণ। অনেকেই জানেন না কোথায় যেতে হবে, কীভাবে বৈধভাবে বিদেশ যাওয়া যায় কিংবা কোন এজেন্সি বিশ্বাসযোগ্য। ফলে তারা দালালের খপ্পরে পড়েন। তিনি রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অভিবাসন কার্যক্রম আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সংস্থাটির মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন এবং প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।