যাদব চন্দ্র রায়, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় সামাজিক বনায়ন স্ট্রিপ বাগানের লভ্যাংশ পাইয়ে দেওয়া ও ব্যাংক হিসাব খোলার নামে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চুক্তিভুক্ত দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বাগানের উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর ভিয়াইল ইউনিয়নের সিট রঘুনাথপুর থেকে চৌরাস্তা হয়ে বাঁধ পর্যন্ত এবং মহলবাড়ী মোড় থেকে ক্রিস্টাইল পর্যন্ত প্রায় ১৫.০ সিডলিং কিলোমিটার সামাজিক বনায়ন স্ট্রিপ বাগানের ৭৫ জন সদস্য এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বাগানের চুক্তিভুক্ত ২ নম্বর সদস্য রঘুনাথপুর গ্রামের উদ্দেশ্য রায়ের ছেলে ডাক্তার কৃষ্ণপদ রায় এবং ৩ নম্বর সদস্য পশ্চিম দামোইর গ্রামের মোঃ মোকসেদুল রহমানের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পরস্পর যোগসাজশে সদস্যদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেন।
সদস্যদের অভিযোগ, বনবিভাগ থেকে সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ বা শেয়ারের টাকা উত্তোলন করে দেওয়া এবং নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার কথা বলে জনপ্রতি বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও অনেক সদস্য লভ্যাংশের টাকা কিংবা হিসাব সংক্রান্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখতে পাননি। এতে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষ্ণপদ রায় ও জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাদের ভাষ্য, বনবিভাগ থেকে শেয়ারের টাকা উত্তোলন ও সদস্যদের ব্যাংক হিসাব খোলার খরচ বাবদ ওই অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে পুরো ঘটনাকে পরিকল্পিত অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প সাধারণ মানুষের আর্থিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকল্পের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
ভুক্তভোগী সদস্যরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বনবিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।