গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা-এর কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মাঝে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসটি যেন এখন “ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে” পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা ছাড়া কোনো কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির খসড়া পর্চা উত্তোলনসহ প্রায় সব ধরনের ভূমিসেবায় সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত টাকা না দিলে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় এবং নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমেই সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরও অনেককে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে অফিসে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল এগোয় না। কেউ নিয়ম মেনে সরাসরি আবেদন করলে তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। বিশেষ করে নামজারি বা খারিজের আবেদনের ক্ষেত্রে জমির দাগ নম্বর ভুল লেখা, হোল্ডিং নম্বর নেই উল্লেখ করা কিংবা অন্যান্য অসঙ্গতি দেখিয়ে আবেদন বাতিলের পথ তৈরি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীরা পুনরায় অফিসে যোগাযোগ করলে দালালদের মাধ্যমে “স্যারকে খুশি” করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে অনেকেই ঘুষ দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, ভূমি অফিসের এই দুর্নীতি এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দিতে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় এবং সেই টাকা বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।