হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় চার দিন ধরে অবস্থানরত ১২ জনকে অবশেষে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার ভোরে চার নারী, চার পুরুষ ও চার শিশুসহ মোট ১২ জনকে দৌলতপুর উপজেলার চরবিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসী ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি মাথাভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি পাটক্ষেতের আইলে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
চার দিন ধরে সেখানে অবস্থানকালে মানবিক কারণে স্থানীয় বাংলাদেশিরা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তাদের খাবার ও পানীয় সরবরাহ করেন। তবে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় গত শনিবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রথম দফায় একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় বিএসএফ আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেনি এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরে সোমবার সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলারের কাছে দুই বাহিনীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিক হওয়ার পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে এবং বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম বৈঠকে বিএসএফ তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করলেও পরবর্তীতে তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়।
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত এলাকায় কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির তৎপরতা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং চার দিন ধরে শূন্যরেখায় মানবিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়।