মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। সবুজ ধানের মাঠের মাঝে কালচে রঙের ধানের শিষ নজর কাড়ছে স্থানীয়দের। ব্যতিক্রমী এই ধানের চাষ করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তরুণ উদ্যোক্তা এনামুল হক এনাম।
পানছড়ি উপজেলার গোলাক প্রতিমাছড়ার ধানের মাঠে নিজস্ব ১২ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইসের চাষ করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পানছড়িতে কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের ধানের চাষ এটিই প্রথম।
উদ্যোক্তা এনামুল হক এনাম জানান, ব্ল্যাক রাইসের বীজ তিনি বগুড়া থেকে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে সংগ্রহ করেন। পরে নিজস্ব জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পর বর্তমানে জমিতে কালচে রঙের ধানের শিষ বের হয়েছে। কোনো কোনো শিষ বেশ বড় ও পরিপুষ্ট হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
এনামুল বলেন, ‘‘১২ শতক জমিতে ব্ল্যাক রাইস চাষ করেছি। চাষ শুরুর আগে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছি। বিশেষ করে সদ্য বিদায়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল আমাকে চাষে উৎসাহ ও সাহস জুগিয়েছেন।’’
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ১২ শতক জমি থেকে প্রায় চার মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন। পরীক্ষামূলক চাষে ভালো ফলন হলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই ধানের চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল কবির বলেন, পানছড়িতে ব্ল্যাক রাইসের চাষ হয়েছে এবং এর ফলনও ভালো হয়েছে। এটি উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি ধান। চাষের পরিধি বাড়ানো গেলে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারবেন। এ এলাকায় ব্ল্যাক রাইসের চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নয়ন্টু চাকমা বলেন, ‘‘আমি এই ব্লকে দায়িত্বে আছি। উদ্যোক্তা এনামুল সমতল জেলা থেকে বীজ সংগ্রহ করে ব্ল্যাক রাইসের চাষ করেছেন। কৃষক পর্যায়ে এ চাষ শুরু করা সম্ভব হলে এর ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়বে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন। এটি উচ্চমূল্যের ফসল। বাজারে প্রতি কেজি ব্ল্যাক রাইসের চাল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।’’
তিনি আরও জানান, ব্ল্যাক রাইস বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোর একটি এবং এর চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুষ্টিগুণ ও বাজারমূল্যের কারণে ব্ল্যাক রাইসের চাহিদা বাড়ছে। পানছড়ির মাটি ও পরিবেশে পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে এটি স্থানীয় কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সবুজ ধানের মাঠের মাঝে কালচে ধানের শিষের এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য এখন স্থানীয়দের দৃষ্টি কাড়ার পাশাপাশি পানছড়ির কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তাও দিচ্ছে।