হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সাফল্য পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান (৪৫)। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ পদ্ধতিতে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পরিচর্যা খরচ কমানোর পাশাপাশি ভালো ফলন পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
মাহমুদ আল-ইমরান উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্তানপাড়া এলাকার সফর উদ্দিনের ছেলে। তিনি এক বিঘা জমিতে ‘এগ্রো ওয়ান লিডার’ জাতের করলা চাষ করেছেন।
উদ্যোক্তা ইমরান জানান, জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করে মালচিং করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। একই সঙ্গে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব হয়। ফলে অতিরিক্ত সেচের প্রয়োজন কমে যায় এবং জমি পরিচর্যার শ্রম ও ব্যয়ও কমে আসে। পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই গাছ থেকে করলা সংগ্রহ শুরু করেন। মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার করায় গাছের পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হয়েছে। উৎপাদিত করলার মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে।
ইমরানের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে করলা চাষে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় তিনি ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি গড়ে ৬০ টাকা দরে এসব করলা বিক্রি করে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ওই জমি থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।
ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, রোগবালাই এবং অতিরিক্ত শ্রমিক খরচের কারণে অনেক সময় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন ও লাভ পান না। এমন পরিস্থিতিতে মালচিংসহ আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমানো এবং ফলন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরান মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা চাষে সফল হয়েছেন।
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে রোগবালাই প্রতিরোধ, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে মালচিং পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।