মো. আখতার হোসেন হিরন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মহিষামুড়া বাজার এলাকায় শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল। নতুন শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম চলছে।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি তাদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়টি নিজস্ব ভবনে তুলনামূলক নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সিসি ক্যামেরা। শিশুদের উপযোগী পরিবেশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইউনিফর্মের ব্যবস্থাও রয়েছে।
অধ্যক্ষ সাধনা আক্তার সনির নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেসব শিশু পড়াশোনায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সহযোগিতা ও যত্ন দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষামুখী না করে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় দিবস পালন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার পারুল বলেন, “শিশুদের মমতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদানের চেষ্টা করি। শ্রেণিকক্ষেই পাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত সহযোগিতা প্রয়োজন, তাদের বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়। আমাদের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।”
বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক জানান, সন্তানদের ভালো শিক্ষার জন্য অনেকেই শহরের প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর কথা ভাবতেন। তবে নিজ এলাকার কাছাকাছি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় তাঁরা এখানে সন্তানদের ভর্তি করিয়েছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা ও পাঠদানের পদ্ধতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট বলেও জানান।
অধ্যক্ষ সাধনা আক্তার সনি বলেন, “শিশুদের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানকে আরও এগিয়ে নিতে অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রয়োজন।”
নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্রহী অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে ভর্তি কার্যক্রম, শ্রেণি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহিষামুড়া ও আশপাশের এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে এ ধরনের স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান, শিক্ষকতার গুণগত মান ও নিরাপদ পরিবেশ ধরে রাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।