কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা বাড়ছে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতটি ইউনিয়নেই একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে থাকায় দলটির অভ্যন্তরে মনোনয়নকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন—আমাদিতে মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, বাগালীতে সালাউদ্দিন, মহেশ্বরীপুরে এম আইয়ুব আলী, মহারাজপুরে মাস্টার সাইফুল্লাহ হায়দার, কয়রা সদরে সরদার জুলফিকার আলম, উত্তর বেদকাশীতে মাস্টার নূর কামাল এবং দক্ষিণ বেদকাশীতে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।
অন্যদিকে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। দক্ষিণ বেদকাশীতে খলিলুর রহমান, এম এ অ্যাডভোকেট মনছুরুল আলম নান্নু ও গাজী সেরাজুল ইসলাম মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। উত্তর বেদকাশীতে শেখ সেরাজুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন।
কয়রা সদর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির নেতা এম এ হাসান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন রুবেল।
মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন শরিফুল আলম, মনিরুজ্জামান বেন্টু, আনিছুর রহমান খোকা ও সাবেক সেনাসদস্য এম আনোয়ার হোসেন। এ ইউনিয়নে তাঁদের বাইরেও বিএনপির আরও ছয়জন নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আমাদি ইউনিয়নেও বিএনপির সাতজন নেতা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন। বাগালী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনসহ একাধিক নেতা নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের একক প্রার্থী ঘোষণার বিপরীতে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর তৎপরতা নির্বাচনের আগে দলীয় সমন্বয় ও প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় সমর্থন পাবেন, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখা নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর কয়রার সাতটি ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।