মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ৪৮ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করেছে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। তবে দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পুনরায় সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।
সশস্ত্র সদস্যদের সরানোর দাবি
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে অবরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে তল্লাশির নামে হয়রানি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হবে। তবে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
এ কর্মসূচির কারণে সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে পর্যটক, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহনের মালিক-শ্রমিকদের সাজেক সড়কে চলাচল না করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
অবরোধ নিয়ে জেএসএস-ইউপিডিএফের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
সাজেকে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা নিয়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। জেএসএসের দাবি, ইউপিডিএফের চাপে পড়ে সংগঠন দুটি অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা। তিনি বলেন, সংগঠন দুটিকে কর্মসূচি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য নয়। সাধারণ মানুষের পক্ষে নেওয়া এ কর্মসূচির প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন রয়েছে।
অন্যদিকে, জেএসএসের রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইউপিডিএফ সাধারণ মানুষকে মাঠে নামিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সাজেকে নতুন করে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণায় পর্যটনকেন্দ্রটির সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাজেকে অবস্থান করছেন কয়েক হাজার পর্যটক
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতেও সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছিলেন। শনিবার তাঁদের একটি অংশ সাজেক ছেড়ে গেছেন। তবে শনিবার রাতেও সেখানে প্রায় দুই হাজার পর্যটক অবস্থান করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সমিতির দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক।
সাজেকের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে সড়ক অবরোধের ঘোষণা পর্যটকদের যাতায়াত, রিসোর্ট-কটেজের কার্যক্রম এবং স্থানীয় পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি কার্যকর হলে পর্যটকদের যাতায়াত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস প্রশাসনের
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, শনিবার সড়ক অবরোধের কর্মসূচির কথা তিনি শুনেছিলেন। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং রোববার থেকে নতুন করে অবরোধের ঘোষণার বিষয়টিও জানতে পেরেছেন।
তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সাজেকের মাচালং উজো বাজারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টার সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে শনিবার নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি শুরু হলেও এক ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
সাজেকে অবরোধ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় কি না এবং পর্যটকদের যাতায়াত কতটা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।