মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
খাগড়াছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভাসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
সকালে ধর্মীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী র্যালির উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা। পরে র্যালিটি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে খাগড়াছড়ি লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি শেষে লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাত তালুকদারের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ-বাংলাদেশ, খাগড়াছড়ি শাখার সভাপতি ধনা চন্দ্র সেন।
সভায় বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এম এন আবছার, নবনিযুক্ত সদস্য ক্ষেত্র মোহন ত্রিপুরা, কুহেলী দেওয়ান, তাছলিমা সিরাজ সীমা, খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের সভাপতি অশোক মজুমদারসহ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের জন্য দ্বাপরযুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। অত্যাচারী কংসের হাত থেকে শান্তিপ্রিয় ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে রক্ষা এবং ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। পরবর্তীতে তিনি অত্যাচারী কংসকে পরাজিত করেন। শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা ও আদর্শ শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, মানবকল্যাণের পথও দেখায় বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার মন্দির থেকে ব্যানার ও ধর্মীয় পতাকা নিয়ে আনন্দ র্যালিতে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী। এতে পুরো শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
র্যালি শেষে মন্দির প্রাঙ্গণে আগত ভক্তদের মাঝে পানি ও শরবত বিতরণ করেন খাগড়াছড়ি সনাতন সমাজ কল্যাণ পরিষদ এবং বাগীশিক গীতা শিক্ষা কমিটির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্যরা।