নুরুল কবির, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা সাতকানিয়াজুড়ে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রোববার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট ট্রাফিক মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী, যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে শাহাদাত হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সাতকানিয়া মডেল মসজিদের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। এ সময় দুই থেকে চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা অস্ত্র উঁচিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৮ এপ্রিল ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ, আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কেরানীহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জায়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, ঢেমশা ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আলম, মাস্টার আবু তাহের, ইউপি সদস্য আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, মাসুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কেরানীহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জায়নাল আবেদীন বলেন, “সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কিছু প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই এসব সন্ত্রাসী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”
তিনি আরও বলেন, “দিনের পর দিন খুন, হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আজ শাহাদাত নিহত হয়েছেন, কাল হয়তো আরও কারও প্রাণ ঝরে যাবে। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাতকানিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান তারা।