আখতার হোসেন হিরন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলার ধুবিল মেহমানশাহী গ্রামের গর্বিত ও রত্নগর্ভা মা জহুরা খাতুন আর নেই। তিনি আজ রবিবার সকালে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। তাঁর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি স্বামী আব্দুল করিম, ৭ সন্তান, ২ পুত্রবধূ, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
দেশের সেবায় নিবেদিত এক অনন্য পরিবার
মরহুমা জহুরা খাতুন ও আব্দুল করিম দম্পতি শুধু একটি পরিবারই গড়ে তোলেননি, গড়ে তুলেছেন দেশের সেবায় নিবেদিত একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁদের ৭ সন্তান ও ২ পুত্রবধূসহ মোট ৯ জন সদস্য বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও শিক্ষাক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবারের উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন—
ছানোয়ার হোসেন: সাবেক মিউজিক ইন্সট্রাক্টর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফিরোজ আহমদ: সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
ফরহাদ হোসেন: সহযোগী অধ্যাপক (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি আকবর আলী কলেজ, উল্লাপাড়া
রফিকুল ইসলাম: জেলা প্রশাসক (ডিসি), দিনাজপুর (বিসিএস ২৭তম ব্যাচ)
শফিকুল ইসলাম: পোস্টমাস্টার, প্রধান ডাকঘর, নাটোর
ফরিদুল ইসলাম: কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রেলওয়ে, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ঢাকা
বিজলী খাতুন: প্রধান শিক্ষক, ধুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
আজমেরী সুলতানা (পুত্রবধূ): সহকারী অধ্যাপক (বিসিএস ৩২তম ব্যাচ), রানী ভবানি সরকারি মহিলা কলেজ, নাটোর
মাহবুবা সুপ্তি: সহকারী শিক্ষক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ
জানাজায় মানুষের ঢল
রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত জানাজায় ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ইমাম তালুকদার সোহান, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
শোকের আবহ এলাকায়
রত্নগর্ভা মায়ের মৃত্যুতে পুরো ধুবিল ও সলঙ্গা এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর সন্তানদের সাফল্য ও দেশের প্রতি অবদান এলাকাবাসীর কাছে তাঁকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শোকসন্তপ্ত পরিবার দেশবাসীর কাছে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা যেন দেশের সেবায় আরও অগ্রসর হতে পারেন, সে দোয়াও কামনা করেছেন।
স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।