মো. হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সরকারি খালের মুখে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী আশীষ সরকারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, এ কারণে গ্রামের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে শত শত একর কৃষিজমি জলাবদ্ধতায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে এবং কয়েকশ পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাবিলাসদ্বীপ রাসমন্দিরের দক্ষিণ পাশে বোয়ালখালী খাল ও ব্রাহ্মচারী খালের সংযোগস্থলে দীর্ঘদিন ধরে একটি পানি চলাচলের পথ ছিল। বর্ষাকালে এই পথ দিয়েই গ্রামের পানি কর্ণফুলী নদীতে নেমে যেত। সম্প্রতি ওই স্থানে বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ করায় পানি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, একসময় এ এলাকার শত শত একর জমিতে ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হতো। বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অনেকেই বেকারত্ব ও দুর্বিষহ জীবনযাপনের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সামান্য বৃষ্টিতেই দত্তবাড়ি, মজুমদারবাড়ি, মিত্রবাড়ি ও দেবপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আশীষ সরকার বলেন, “আরএস ও বিএস খতিয়ানে সেখানে কোনো খাল নেই। আমি বৈধভাবে জমি কিনে প্লট করেছি এবং চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ করেছি। পানি চলাচলের জন্য মাটির নিচে একটি পাইপও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুধু আমাকেই দোষারোপ করা হচ্ছে, অথচ আশপাশেও অনেকেই পানি চলাচলের জায়গা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদ প্রকাশ করলে আমার আপত্তি নেই। প্রয়োজনে আমি আইনের আশ্রয় নেব।”
এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য দোলন কান্তি দত্ত বলেন, “এখানে বহু বছরের পুরোনো একটি নালা ছিল, যা দিয়ে হাবিলাসদ্বীপ গ্রামের পানি ব্রাহ্মচারী খাল হয়ে বোয়ালখালী খালে গিয়ে পড়ত। এটি সরকারি জলপ্রবাহের পথ ছিল। পরবর্তীতে সেখানে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং জনগণের ক্ষতি হয়েছে।”
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য বেবি চৌধুরী প্রথমে সেখানে খাল থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “ওখানে একটি নালা ছিল, যেটি দিয়ে গ্রামের পানি নিষ্কাশন হতো।”
এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা দ্রুত খালের বাঁধ অপসারণ করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান না হলে এলাকায় জনঅসন্তোষ বাড়তে পারে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।