ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা থেকে একটি অসুস্থ গরু কিনে জবাই করার পর মাংস হিসেবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে ফরিদপুর থানা পুলিশ। এ সময় জবাই করা গরুর মাংস উদ্ধার করে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া এলাকার কাশিমপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সাঁথিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের মুনজুর আলীর ছেলে মো. রবিন এবং খান মোহাম্মদপুর গ্রামের তাজের প্রামাণিকের ছেলে মো. বাবুর আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা ভাঙ্গুড়া উপজেলার চর-ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া এলাকা থেকে একটি অসুস্থ গরু কিনে মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। পরে বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গরুটিকে জবাই করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দাসহ আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে ফরিদপুর উপজেলার কাশিমপুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুরুল হাসান মাসুদের নেতৃত্বে এসআই নুর মোহাম্মদসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে রবিন ও বাবুর আলীকে আটক করে। এ সময় জবাই করা গরুর মাংসও উদ্ধার করা হয়।
পরে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আলহাজ উদ্দিনের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা মাংস ধ্বংস করা হয়। এ জন্য ফরিদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের পেছনে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত করে মাংসগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে এর আগেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূর্বের একটি ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন বলেন, অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারজাত ও বিক্রির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।