আখতার হোসেন হিরন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা ব্রিজের নিচে ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল ভাসমান কচুরিপানার স্তুপকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সৃষ্টি হয়েছিল এক ব্যতিক্রমধর্মী দৃশ্য। নদীর বুকে প্রাকৃতিকভাবে ভেসে থাকা কচুরিপানার স্তূপ দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছিলেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধরাও বিকেল হলেই সেখানে ছুটে আসতেন প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
স্থানীয়দের উদ্যোগে কচুরিপানার স্তূপের ওপর কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসে যায়। ফলে এলাকাটি অল্প সময়ের মধ্যেই এক ধরনের অস্থায়ী বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ সেখানে আসতে শুরু করেন।
তবে মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্যের আড়ালে তৈরি হচ্ছিল বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা। নদীর ওপর অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে থাকায় নিচের গভীরতা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অসাবধানতাবশত কেউ কচুরিপানার ওপর উঠলে কিংবা পা পিছলে নদীতে পড়ে গেলে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এমন পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোগ নেয় রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রেজাউল করিমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের সহযোগিতা ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে নদীতে জমে থাকা কচুরিপানার স্তুপ কেটে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে এলাকাজুড়ে মাইকিং করে জনসাধারণকে সেখানে ভিড় না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া এই ভাসমান কচুরিপানার দৃশ্যটি যেমন ছিল দৃষ্টিনন্দন, তেমনি তা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।