সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল ও সড়কে যানবাহন পার্কিংয়ের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা দোকান এবং সড়কে অবৈধভাবে অটোরিকশা ও সিএনজি পার্কিংয়ের দায়ে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একজনকে সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানা করা হয়।
অভিযানে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার, মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম, মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের ফিডার সড়কে অবৈধ ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র অটোরিকশা এবং সিএনজি পার্কিং বন্ধে বিভিন্ন সময় অভিযান ও মাইকিং করা হয়েছে। অটোরিকশা ও সিএনজির জন্য নির্ধারিত স্থান থাকা সত্ত্বেও চালকরা সড়কের ওপর যানবাহন পার্কিং করে রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে। এমনকি এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে যানজট এড়াতে বুধবারও তাদের সতর্ক করা হয়। কিন্তু তারা নির্দেশনা উপেক্ষা করায় বৃহস্পতিবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইউএনও আরও জানান, এদিনের অভিযান ছিল সতর্কতামূলক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার দুই পাশে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জনদুর্ভোগ কমাতে পরিচালিত অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪ জনকে কারাদণ্ড এবং একজনকে জরিমানা করা হয়। সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।