মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) কর্মকর্তা জাহেরা খাতুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় একটি দালালচক্রের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলায় মোট আনসার সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন, যার মধ্যে সরকারি ভাতাভুক্ত সদস্য রয়েছেন ৩৮ জন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের নামে অর্থ আদায় এবং ভুয়া তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমলনগর উপজেলার ৫৫টি ভোটকেন্দ্রে ৭১৫ জন আনসার সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে দলনেতা ও ইউনিয়ন আনসার কমান্ডারদের মাধ্যমে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। তামান্না আক্তার নামে এক আনসার সদস্য অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ডিউটি পেতে তাকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনকালীন দুই দিনের খাবার বাবদ প্রতিজনের জন্য ৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অনেক সদস্যকে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কোনো খাবারই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচন অফিস পাহারার জন্য ছয়জন আনসার সদস্যের নামে জনপ্রতি ৪৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাত্র দুজন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এ ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অর্থ এবং নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হাসেম বলেন, “প্রথম কয়েকদিন কয়েকজন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও পরবর্তীতে নিয়মিত কাউকে দেখা যায়নি।”
ডিউটিতে অংশ নেওয়া আনসার সদস্য শামিম হোসেন সুজন দাবি করেন, “আমি ও এমরান দুই মাস দায়িত্ব পালন করেছি। অন্য কাউকে আমাদের সঙ্গে দেখা যায়নি।”
এদিকে, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ আয়োজনেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ৩২ জন সদস্যের নামে বরাদ্দ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কম সংখ্যক সদস্যকে অংশগ্রহণ করিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জাহেরা খাতুন বলেন, “একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। তবে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।” তিনি অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট মো. রেজাউল হোসেন বলেন, “আমি সম্প্রতি এ জেলায় যোগদান করেছি। অভিযোগগুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় আনসার সদস্যরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।