মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
বয়স ৭০ পেরিয়ে গেছে, কিন্তু থেমে নেই জীবনের সংগ্রাম। সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন ভোরে বেরিয়ে পড়েন নিজের ছোট্ট মসলার দোকান নিয়ে। কারণ, ঘরে বসে থাকলে ৮ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ সম্ভব নয়। বলছিলাম লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল খোনার বাড়ির বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীনের কথা।
মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে যে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, জীবনের ৫৫ বছর পেরিয়েও আজও সেই ব্যবসাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। প্রয়াত বাবা জামাল খোনার রেখে যাওয়া ছোট্ট মসলার ব্যবসাটি বর্তমানে ছোট ভাই নুর হোসনের সঙ্গে মিলে পরিচালনা করছেন জয়নাল আবেদীন।
প্রতিদিন বিভিন্ন হাট-বাজারে রিকশায় করে ঘুরে ঘুরে জিরা, দারুচিনি, আদা, তেজপাতাসহ রান্নার বিভিন্ন মসলা বিক্রি করেন তিনি। স্থানীয় ক্রেতাদের কাছেও তার বিক্রি করা মসলার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।
জীবনের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমার বাবা এই ব্যবসা করতেন। বাবার স্মৃতি হিসেবে আমরা দুই ভাই এই ব্যবসা ধরে রেখেছি। আমি ১০ বছর বয়স থেকে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। জীবনটা এই পথেই কাটিয়ে দিলাম, কিন্তু কোনোদিন কেউ আমাদের খোঁজ-খবর নেয়নি।”
দিনভর কঠোর পরিশ্রম করেও সামান্য আয়ে ৮ সদস্যের সংসার চালানো তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। তবে বয়সের ভার ও আর্থিক কষ্ট সত্ত্বেও তিনি হার মানতে নারাজ। ঘরে বসে অবসর কাটানোর পরিবর্তে এখনও সততা ও পরিশ্রমকে পুঁজি করেই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, ৭০ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তি আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। এমনকি তার ভাগ্যে জোটেনি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডও। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, জয়নাল আবেদীনের মতো পরিশ্রমী ও সংগ্রামী প্রবীণ মানুষের পাশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তার হাত বাড়ানো প্রয়োজন। এতে জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি কিছুটা স্বস্তি ও সম্মানের সঙ্গে কাটাতে পারবেন।