শিরোনাম
রায়গঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: কিশোরের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত পার্বতীপুরে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ আদমদীঘিতে ক্যাশ মেমো ছাড়াই সার পরিবহন: ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, গুদাম সিলগালা কয়রার ফতেকাটি কুশোডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে ১৫৫ শিক্ষার্থী, দ্রুত নতুন ভবনের দাবি পঞ্চগড়ে কৃষিঋণ মওকুফ সনদ বিতরণ: ‘সারের কোনো সংকট নেই, কারসাজি করলে আইনের হাতে তুলে দিন’ — প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সিংড়ায় আবাদি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি ওঝা ইমরান, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরলেন জয়পুরহাটে ডিবির অভিযানে ৫৫১ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার, ব্যবসায়ী আটক দর্শনা পৌর মেয়র হলে ৮ অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন করবো: এনামুল হক শাহ মুকুল মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবারকেই মূল ভূমিকা নিতে হবে: ময়মনসিংহে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

রামগতিতে ৫৫ বছর ধরে বাবার স্মৃতি আঁকড়ে জয়নালের সংগ্রাম, মেলেনি বয়স্ক ভাতাও

প্রতিবেদকের নাম / ২৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

 

মোখলেছুর রহমান ধনু

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

বয়স ৭০ পেরিয়ে গেছে, কিন্তু থেমে নেই জীবনের সংগ্রাম। সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন ভোরে বেরিয়ে পড়েন নিজের ছোট্ট মসলার দোকান নিয়ে। কারণ, ঘরে বসে থাকলে ৮ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ সম্ভব নয়। বলছিলাম লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল খোনার বাড়ির বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীনের কথা।

মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে যে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, জীবনের ৫৫ বছর পেরিয়েও আজও সেই ব্যবসাকেই আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। প্রয়াত বাবা জামাল খোনার রেখে যাওয়া ছোট্ট মসলার ব্যবসাটি বর্তমানে ছোট ভাই নুর হোসনের সঙ্গে মিলে পরিচালনা করছেন জয়নাল আবেদীন।

প্রতিদিন বিভিন্ন হাট-বাজারে রিকশায় করে ঘুরে ঘুরে জিরা, দারুচিনি, আদা, তেজপাতাসহ রান্নার বিভিন্ন মসলা বিক্রি করেন তিনি। স্থানীয় ক্রেতাদের কাছেও তার বিক্রি করা মসলার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।

জীবনের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমার বাবা এই ব্যবসা করতেন। বাবার স্মৃতি হিসেবে আমরা দুই ভাই এই ব্যবসা ধরে রেখেছি। আমি ১০ বছর বয়স থেকে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। জীবনটা এই পথেই কাটিয়ে দিলাম, কিন্তু কোনোদিন কেউ আমাদের খোঁজ-খবর নেয়নি।”

দিনভর কঠোর পরিশ্রম করেও সামান্য আয়ে ৮ সদস্যের সংসার চালানো তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। তবে বয়সের ভার ও আর্থিক কষ্ট সত্ত্বেও তিনি হার মানতে নারাজ। ঘরে বসে অবসর কাটানোর পরিবর্তে এখনও সততা ও পরিশ্রমকে পুঁজি করেই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, ৭০ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তি আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। এমনকি তার ভাগ্যে জোটেনি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডও। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, জয়নাল আবেদীনের মতো পরিশ্রমী ও সংগ্রামী প্রবীণ মানুষের পাশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তার হাত বাড়ানো প্রয়োজন। এতে জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি কিছুটা স্বস্তি ও সম্মানের সঙ্গে কাটাতে পারবেন।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভস
30 June 2026

রামগতিতে ৫৫ বছর ধরে বাবার স্মৃতি আঁকড়ে জয়নালের সংগ্রাম, মেলেনি বয়স্ক ভাতাও

www.dainikkagoj.com
30 June 2026

রামগতিতে ৫৫ বছর ধরে বাবার স্মৃতি আঁকড়ে জয়নালের সংগ্রাম, মেলেনি বয়স্ক ভাতাও

www.dainikkagoj.com