শিরোনাম
ময়মনসিংহ জেলা মাসিক রাজস্ব সভায় শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড হিসেবে সম্মাননা পেলেন সৈয়দা তামান্না হোরায়রা ভাঙ্গুড়ায় রাস্তার পাশের গাছ বিক্রির অভিযোগ, তদন্তে বন বিভাগ ভাঙ্গুড়ায় প্রিজম প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলে ২ হাজার গাছের চারা বিতরণ সীতাকুণ্ডে কিশোরের মৃত্যুর জেরে গণপিটুনিতে নিহত চিহ্নিত মাদক কারবারি, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ সিংড়ায় হিলফুল ফুজুল বাংলাদেশের উদ্যোগে দিনব্যাপী নৌকা ভ্রমণ অনুষ্ঠিত দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন সান্তাহারে ট্রাক্টর, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত নেত্রকোনায় নিজ ঘরে যুবককে গলা কেটে হত্যা কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন মিজ সানজিদা চৌধুরী খাগড়াছড়িতে পিসিএনপির মতবিনিময় সভা, সংগঠনকে ‘ফ্যাসিস্টমুক্ত’ করার দাবি চেয়ারম্যান হামিদ রানার
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

লাগাতার তীব্র লোডশেডিংয়ের ক্ষোভে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ভাঙচুর

প্রতিবেদকের নাম / ১৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

 

পলাশ পাল, জেলা প্রতিনিধি :

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট, লো-ভোল্টেজ সমস্যা এবং তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশ কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে পুরো কেন্দুয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং এবং স্বাভাবিক ভোল্টেজ না থাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে একাধিকবার কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকালে ক্ষুব্ধ কয়েকজন গ্রাহক জোনাল অফিসে গিয়ে ভাঙচুর চালান।

২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য অনুযায়ী, কেন্দুয়া উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৬ জন। এর বিপরীতে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯৪ হাজার। বর্তমানে পিক আওয়ারে উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দুয়ায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়া এলাকায় ৮টি এবং রামপুর এলাকায় ৪টি ফিডার রয়েছে। যদিও সরকারি কাগজপত্রে ফিডারের সংখ্যা ১৩টি উল্লেখ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ নম্বর ফিডারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কেন্দুয়া অঞ্চলের ৮টি ফিডারের মধ্যে বর্তমানে ৬টিই বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহ গ্রিডের মাধ্যমে নেত্রকোণা হয়ে কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। রোববার সকালে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, ওই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক বলেন, “আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ীই গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভস
28 June 2026

লাগাতার তীব্র লোডশেডিংয়ের ক্ষোভে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ভাঙচুর

www.dainikkagoj.com
28 June 2026

লাগাতার তীব্র লোডশেডিংয়ের ক্ষোভে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ভাঙচুর

www.dainikkagoj.com