ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় গাছের চারা ও জৈব সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত জৈব সারের মধ্যে পলিথিন, প্লাস্টিক, মাটি ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা মিশ্রিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। অভিযোগের মুখে অনেক কৃষক সার গ্রহণ না করে শুধু গাছের চারা ও বাঁশের খুঁটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। পরে প্রশাসনের নির্দেশে বিতরণ কার্যক্রম থেকে নিম্নমানের সার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার দুপুরে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় প্রাঙ্গণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চারা ও জৈব সার বিতরণকালে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২০০ জন কৃষক এবং ১০০টি শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০০টি আম, ২০০টি জলপাই এবং ৮০০টি নিম, ঘোড়ানিম ও মেহগনি চারা। প্রতিটি চারার সঙ্গে ৩০ কেজি করে জৈব সার দেওয়ারও বরাদ্দ রয়েছে।
বিতরণকালে কয়েকজন কৃষক সারের বস্তা খুলে দেখেন, সেখানে সারের সঙ্গে পলিথিন, প্লাস্টিক, মাটি ও আবর্জনাসদৃশ উপাদান মিশ্রিত রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকেই নিম্নমানের সার নিতে অস্বীকৃতি জানান।
উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, “জৈব সারের নামে যেসব বস্তা দেওয়া হচ্ছিল, তাতে ময়লা-আবর্জনা ও পলিথিন ছিল। এসব জমির জন্য উপকারী নয়। তাই আমরা অনেকেই সার না নিয়ে শুধু চারা নিয়েছি।”
আরেক কৃষক রঞ্জু বলেন, “আগেও কৃষি অফিস থেকে ভালো মানের সার পেয়েছি। এবার দেওয়া সারের মান নিয়ে সন্দেহ হয়েছে। তাই সার গ্রহণ করিনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, বিতরণ করা জৈব সারের মান সন্তোষজনক ছিল না। এছাড়া গাছের খুঁটি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ বাঁশ দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ফাটানো বাঁশ দেওয়া হয়েছে। চারার আকারও তুলনামূলক ছোট ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল কবির বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে সারের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন বলেন, “যেসব বস্তায় নিম্নমানের বা ভেজাল জৈব সার পাওয়া গেছে, সেগুলো বিতরণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব সার ফেরত পাঠানো হবে এবং মানসম্মত সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।”
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইন বলেন, “বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সার বিতরণে অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের সার ফেরত দিয়ে নতুন করে ভালো মানের জৈব সার সংগ্রহ করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সরকারি কৃষি সহায়তা কর্মসূচিতে এমন অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।