শাহ আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের বুক চিরে বয়ে চলা যমুনা নদী। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙনের আশঙ্কা, আর কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।
স্থানীয়দের কাছে যমুনা যেমন আশীর্বাদের, তেমনি দুর্যোগেরও প্রতীক। প্রতিবছর নদীভাঙনে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হলেও, এই নদীকেই ঘিরে গড়ে ওঠে হাজারো মানুষের জীবিকা। ভাঙা-গড়ার এই চক্রের মধ্যেই নতুন স্বপ্ন বুনে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।
নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীতে মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। ভোর থেকেই ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে নদীতে নামছেন জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ছে ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ। এসব মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে সংসারের জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।
চরাঞ্চলের মানুষের জন্যও বর্ষাকালে যমুনা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে পরিণত হয়েছে। কম খরচে নৌপথে বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করছেন তারা।
এদিকে বিকেলের দিকে যমুনার তীরে ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। উত্তাল নদীর গর্জন, বিস্তীর্ণ জলরাশি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকের মতে, যমুনার এই অপরূপ সৌন্দর্য কিছুটা হলেও সমুদ্রসৈকতের অনুভূতি এনে দেয়।
এছাড়া প্রতিদিন ভোরে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ নদীর তীরে হাঁটতে আসেন। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নির্মল বাতাস তাদের আকর্ষণ করে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকলেও যমুনা নদীকে ঘিরেই সিরাজগঞ্জের মানুষের জীবন, জীবিকা ও আবেগের এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন গড়ে উঠেছে।