মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৮ নম্বর চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা মো. মফিজ উল্লাহ শিপন মিয়া ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিনই সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, মতবিনিময় এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
গণসংযোগকালে শিপন মিয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। পাশাপাশি ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত গ্রহণ করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, যুবসমাজ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
মফিজ উল্লাহ শিপন চর কাদিরা ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম বশির উল্লাহ মিয়ার ছোট ছেলে। তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মরহুম মনিরুল ইসলাম রিপুর ছোট চাচা এবং সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন রাজন রাজুর ছোট মামা হিসেবে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন সমাজসেবক হিসেবেও শিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলীয় দুঃসময়ে সক্রিয় ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার এই দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও সহজ-সরল আচরণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
গণসংযোগ চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটাররা জানান, চর কাদিরা ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মফিজ উল্লাহ শিপন একজন সম্ভাবনাময় চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হলে সাধারণ ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজ উল্লাহ শিপন মিয়া বলেন, “আমি সবসময় চর কাদিরা ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন, তাহলে একটি আধুনিক, সুশাসনভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নয়নমুখী চর কাদিরা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
শেষে তিনি চর কাদিরা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেন এবং নির্বাচনে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।