নেত্রকোণা প্রতিনিধি :
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, যুক্তি, বিশ্লেষণ ও নেতৃত্বের দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে নেত্রকোণায় দিনব্যাপী বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী ও ৩০ জন শিক্ষক এতে অংশ নেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘যুক্তির মঞ্চে শাণিত হোক মেধা’ প্রতিপাদ্যে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বক্তব্য উপস্থাপন, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মতামত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিতর্কচর্চার মাধ্যমে বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আয়োজনের অন্যতম বিশেষত্ব ছিল জেলার ১০ উপজেলার শিক্ষার্থীদের জেলা শহরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই মঞ্চে যুক্ত করা। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, চিন্তা ও যুক্তি প্রকাশের সুযোগ পান। ৩০ জন শিক্ষককে সম্পৃক্ত করায় বিদ্যালয় পর্যায়ে বিতর্কচর্চা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার দেবাশীষ রঞ্জন সরকার, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের লেকচারার মাহফুজা মাহবুব এবং আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল কবীর সরকার।
আলোচকরা বলেন, বিতর্ক শুধু প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিষয় বিশ্লেষণ, যুক্তির যথার্থতা যাচাই, তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার মানসিকতা তৈরি করে। ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে এসব দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনকল্যাণমূলক ও শিক্ষাবান্ধব নানা উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল।