শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত প্রিন্সিপাল-১০০ শপিংমলের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ১৪৬টি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঘটনাটি ধরা পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটির নাম ‘আমিনুল টেলিকম’। দোকানের কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে তারা বাসায় চলে যান। শুক্রবার সকালে দোকানে এসে দেখতে পান দোকানের দুটি তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। পরে শাটার খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে দোকান এলোমেলো দেখতে পান এবং ডিসপ্লেতে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৪৬টি মোবাইল ফোন খোয়া গেছে বলে নিশ্চিত হন।
দোকান সংশ্লিষ্টদের দাবি, চুরি হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। ঘটনার পরপরই তারা বিষয়টি মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অবহিত করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, একটি আধুনিক ও ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্সে এমন বড় ধরনের চুরির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার সূত্র উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গিয়ে জানা যায় দোকানের নিজস্ব ক্যামেরাটি দীর্ঘদিন ধরে অচল ছিল। ফলে চোরদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে দোকানের কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি বড় শপিংমলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া উদ্বেগজনক। কীভাবে চোরেরা এত বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে বের হয়ে গেল, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারের দাবি জানান।
এদিকে মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, চুরি হওয়া মোবাইলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি আইফোন ছিল, যেগুলোর কিছু সরাসরি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। তাদের মতে, সব মোবাইলের বৈধ কাগজপত্র না থাকলে উদ্ধার কার্যক্রম ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রিন্সিপাল-১০০ প্লাজার এক নিরাপত্তা কর্মী বলেন, “আমরা প্রতিদিন সকাল ৯টায় মার্কেট খুলে দেই। এসময় দোকানদার ও ক্রেতাদের যাতায়াত থাকে। কে দোকানদার আর কে চোর, তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা কঠিন। এছাড়া কোনো ব্যক্তিকে বড় ব্যাগ নিয়ে মার্কেট থেকে বের হতেও দেখা যায়নি।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা শপিংমলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং ও নিরাপত্তা তদারকি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।