মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
খেলার জন্য নেই কোনো নিজস্ব মাঠ, নেই পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামো। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিভার জোরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ফুটবলাররা উপজেলা প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
তবে এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ ৯১ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস। ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অথচ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে কোনো নিজস্ব খেলার মাঠ গড়ে ওঠেনি। ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শারীরিক ব্যায়াম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিনিয়ত নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই একটি পরিত্যক্ত পুকুর রয়েছে। পুকুরটি ভরাট করা হলে সেখানে একটি মানসম্মত খেলার মাঠ নির্মাণ করা সম্ভব। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ পাবে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।
খেলার মাঠের জন্য পুকুর ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, “শিক্ষকদের জমি বা পুকুর নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?”
ইউএনওর এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মৌলিক সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। মাঠ না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করেছে। তাই তাদের জন্য একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং তাদের সুস্থ শারীরিক-মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয় সংলগ্ন পরিত্যক্ত পুকুর ভরাট করে দ্রুত একটি খেলার মাঠ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।