নুরুল কবির, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার জন্য পাহাড় ও কৃষিজমি কাটার সময় সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাটি কাটায় ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর (বেকু) ও একটি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) রাতে সাতকানিয়া থানা সার্কেল পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর যৌথ নেতৃত্বে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেবি-৩ নামের একটি অবৈধ ইটভাটার মালিক শাহ আলম কোম্পানির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি ও সরকারি পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে এলাকার পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও দীর্ঘদিন স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শনিবার রাতে মাটি কাটার স্থান ঘেরাও করে। তারা মাটি কাটার সরঞ্জামসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান বলেন, “এই চক্রকে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। তবে প্রতিবারই তারা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেত। এবার এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি জানান, ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইটভাটার ম্যানেজারকে তিন মাস এবং একটি গাড়ির চালককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাহাড় ও কৃষিজমি রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “পাহাড় ও কৃষিজমি আমাদের জাতীয় সম্পদ। ব্যক্তিস্বার্থে এসব ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।” তিনি পরিবেশ রক্ষায় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের অপরাধের মূল হোতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।