সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
“আমার বাবাকে যারা মেরেছে, তাদের বিচার চাই। আমার বাবাকে আর ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না, কিন্তু হত্যাকারীদের শাস্তি হোক।” — এমন হৃদয়বিদারক আহ্বান জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশু কন্যা ওয়াকিয়া। তার আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত শতাধিক মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে নিহত ফয়জুল মিয়ার পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের স্বজন, স্থানীয় এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় অবস্থিত এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ফয়জুল মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সজীব, রকি ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতন ও মারধরের কারণেই ফয়জুল মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় মেয়ে নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী মাসুদা বেগম বলেন, “আমার তিন সন্তানের বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি একজন অসহায় নারী। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমার ভাই সুস্থ অবস্থায় নিরাময় কেন্দ্রে গিয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা তার লাশ পেয়েছি। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়। আমরা দ্রুত তদন্ত ও সকল আসামির গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
এ সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গাবতলি গ্রামের ইসমাইল মেম্বারের ছেলে রকি, সজীবসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা সকল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, নিহত ফয়জুল মিয়া উপজেলার কাঁচপুর বেহাকৈর এলাকার ফোছন আলীর ছেলে। পরিবারের দাবি, মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় “ফয়জুল হত্যার বিচার চাই”, “হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করো” এবং “নিরাময় কেন্দ্রের নামে নির্যাতন বন্ধ করো” স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।