নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া সংবাদদাতা:
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি মোটরসাইকেল, একটি বাটন মোবাইল ফোন, নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা, ৭.৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং কিছু ইমিটেশনের গহনা উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে গভীর রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপলি (ফকিরপাড়া) এলাকায় মো. রশিদুল আলমের বাড়িতে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল গত শুক্রবার (৫ জুন) কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও বগুড়া সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ডাকাত চক্রের সদস্য আসলাম সাকিদার (২৭), জিয়ারুল ইসলাম জিয়াউর রহমান (৪৬) এবং সাইদুর মণ্ডল ওরফে মগা (৩৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৩১ মে শিবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দহপাড়া এলাকায় মো. জিয়াউল হকের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই ঘটনায় ডাকাতরা বাড়ির মালিককে আহত করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, স্মার্টফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
এ মামলার তদন্তে ডিবি পুলিশ শিবগঞ্জ ও কাহালু এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েল প্রামানিক (২৪) ও আব্দুল ওহাব (২৮)-কে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ৭.৫ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি কানের দুল রয়েছে। এছাড়া কিছু ইমিটেশনের গহনাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসলাম সাকিদারের বিরুদ্ধে ৫টি, জিয়ারুল ইসলাম জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ১টি, সাইদুর মণ্ডল ওরফে মগার বিরুদ্ধে ২টি এবং জুয়েল প্রামানিকের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।