মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রচণ্ড গরম ও তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে মৌসুমি ফল তালের শাঁস। প্রাকৃতিক, সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এখন জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়কের মোড় ও জনবহুল এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য বিক্রেতাকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমলনগরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর তালগাছ থাকায় সহজেই পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা তাল। এসব তাল থেকে সংগ্রহ করা শাঁস বাজারে আকার ও মানভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে হাজিরহাট বাজার, ফজুমিয়ার হাট, তোরাবগঞ্জ বাজার, চর লরেঞ্চ, করুণানগর ও পাটারীরহাট এলাকায় তালের শাঁসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালের শাঁসের চাহিদাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ মৌসুমি ব্যবসায় যুক্ত হয়ে অনেক তরুণ ও নিম্নআয়ের মানুষ বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। হাজিরহাট বাজারের শাঁস বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভালো বিক্রি হচ্ছে। গরমে মানুষ ঠাণ্ডা ও প্রাকৃতিক খাবারের দিকে ঝুঁকছে। তাই তালের শাঁসের চাহিদা অনেক বেড়েছে।”
ক্রেতাদের মতে, রাসায়নিকযুক্ত কোমল পানীয় বা কৃত্রিম শরবতের তুলনায় তালের শাঁস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর ও উপকারী। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পানি, খনিজ লবণ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। ফলে তৃষ্ণা মেটাতে ও গরমের ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই তালের শাঁসকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, তালের শাঁস শুধু একটি সুস্বাদু মৌসুমি ফলই নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ গরমে স্বস্তি পাচ্ছেন, অন্যদিকে মৌসুমি এই ব্যবসার মাধ্যমে বহু পরিবার অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে।
প্রকৃতির অনন্য এই উপহার তালের শাঁস বর্তমানে কমলনগরের মানুষের কাছে গরমের দিনে স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া যতই উত্তপ্ত হচ্ছে, তালের শাঁসের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও চাহিদাও ততই বাড়ছে। ফলে পুরো উপজেলাজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে তালের শাঁস বিক্রির এক প্রাণচঞ্চল দৃশ্য।