পলাশ পাল, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোণার পৌর শহরের কাটলি এলাকায় নিজ বাসায় ঢুকে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নিহতের স্বামী ও ছেলেকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরের কাটলি এলাকার একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম মনোয়ারা বেগম (৫৫)। আহতরা হলেন তার স্বামী আবু চান (৬০) এবং ছেলে মুন্না মিয়া (২৫)। অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ, পেশায় একজন রিকশাচালক এবং তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাসায় প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা ও ভাইকে দেখতে পান নিহতের মেয়ে লিজা। তিনি জানান, প্রতিবেশী রশিদ মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাবা ও ভাইকে কুপিয়ে আহত করেছে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে। পরে ঘরের খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লিজা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত রশিদ তাদের পরিবারের পরিচিত ব্যক্তি। তিনি প্রায়ই তাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। তার আচরণ ও চরিত্র নিয়েও পরিবারের আপত্তি ছিল বলে জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এই সুযোগে আব্দুর রশিদ প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার ছেলে মুন্না মিয়া মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানকে রক্ষা করতে গেলে আবু চানও হামলার শিকার হন।
নেত্রকোণা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, স্থানীয়রা ঘটনাটি টের পেয়ে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলেই আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। আহত আবু চান ও মুন্না মিয়াকে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মুন্না মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পিবিআইও ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একই এলাকার একজন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।