কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র নির্দেশনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুসরণে খুলনার কয়রা শাখায় খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করতে বছরব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘ঋণ আদায় মাস’ ঘোষণা করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, যার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা এবং ব্যাংকের আর্থিক শৃঙ্খলা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) কয়রা শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, খুলনা প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ গোলাম কুদ্দুস।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সারা বছরব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুন মাসকে বিশেষভাবে ‘ঋণ আদায় মাস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে গ্রাহকদের জন্য নীতিমালার আওতায় বিশেষ সুবিধা ও সুযোগ রাখা হবে।
উদ্বোধনী দিনেই গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। শাখা সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনেই প্রায় ২০ জন গ্রাহক স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের খেলাপি ঋণের কিস্তি ও বকেয়া পরিশোধ করেন, যা ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
কয়রা শাখার ব্যবস্থাপক তুষার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রিন্সিপাল অফিসের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ ওসমান গনি এবং প্রিন্সিপাল অফিসার সুশান্ত কুমার দাশ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিজিএম মোঃ গোলাম কুদ্দুস বলেন,
“সোনালী ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। গ্রাহকদের সুবিধা ও ব্যাংকের তারল্য প্রবাহ ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই বিশেষ আদায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, খেলাপি গ্রাহকদের আইনি জটিলতা এড়াতে এবং বিশেষ ছাড়ের সুবিধা গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা উচিত। আগামী জুন মাসের ‘ঋণ আদায় মাস’ এ এই কার্যক্রম আরও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে।
কয়রা শাখার ব্যবস্থাপক তুষার মন্ডল বলেন,
“গ্রাহকবান্ধব সেবার মাধ্যমে কয়রা শাখাকে একটি আদর্শ ব্যাংকিং শাখা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলাপি ঋণ আদায়ে এই বিশেষ উদ্যোগ আমাদের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।”
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কয়রা অঞ্চলে ব্যাংকিং শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে এবং খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।