মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি | খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) এর তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষের সময় একজন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর সিন্ধুকছড়ি জোনের অধীনস্থ জালিয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় ও সেনাসূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান চালালে ইউপিডিএফ সদস্যরা সেনা টহল দলের ওপর গুলি চালায়। পরে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সুইথোয়াই মারমা (৩৫) নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন।
পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ইউপিডিএফের কালেক্টর রনেল চাকমা ওরফে মন্টু চাকমা, রাজু মারমা ওরফে সাচিং (১৮) সহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়। আটক রনেল চাকমা গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি এলাকার এবং রাজু মারমা রামগড় উপজেলার যৌথ খামার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধ সুইথোয়াই মারমার বাড়ি খেদাছড়া এলাকায়।
আহত ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
অভিযানস্থল থেকে একটি একে–২২ রাইফেল, ৫ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, ৪টি মোবাইল ফোন এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে তিন ইউপিডিএফ সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করেছে। আহত একজনকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।