মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি
নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়) প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাধারণ ও মডেল কেয়ারটেকার এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় লংগদু উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন লংগদু উপজেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লংগদু উপজেলা মডেল কেয়ারটেকার মোঃ খাইরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ফিল্ড অফিসার মোঃ খালেদ মোঃ শামসুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর মহাপরিচালক জনাব আব্দুস সালাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর খান।
বক্তারা আরও বক্তব্য রাখেন—মাইনীমুখ ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোঃ ফেরদৌস আলম, লংগদু উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোঃ নাছির উদ্দীন, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুর রশীদ, লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ এখলাস মিয়া খান, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা সোহেল আহম্মেদ এবং গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষক হাফেজ আবদুল মতিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে লংগদু উপজেলায় দুর্গম এলাকায় সফলভাবে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই প্রকল্প সহজ কুরআন শিক্ষা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং বয়স্ক শিক্ষার মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার কোমলমতি শিশুদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তারা আরও বলেন, দুর্গম এলাকার প্রেক্ষাপটে প্রকল্পে নিয়োজিত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সম্মানী ভাতা অত্যন্ত নগণ্য। তাই ভবিষ্যতে জনবলের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং পার্বত্য ভাতা প্রদানের দাবি জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর মহাপরিচালক আব্দুস সালাম খান বলেন, দীর্ঘ পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প আল্লাহর অশেষ রহমতে ৮ম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এটি স্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি শিক্ষক, কেয়ারটেকার ও কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে মহাপরিচালক লংগদু উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ এবং উপজেলা মডেল রিসোর্স সেন্টার কাম সাব-অফিস পরিদর্শন করেন।